web site hit counter Of Blood And Fire: The Untold Story Of Bangladesh's War Of Independence - Ebooks PDF Online
Hot Best Seller

Of Blood And Fire: The Untold Story Of Bangladesh's War Of Independence

Availability: Ready to download

The year 1971 saw the eastern half of Pakistan (now Bangladesh) rise in revolt against the military regime of the country which had unleashed a reign of terror to crush the people's demand for independence. There were indiscriminate killing, burning and looting of the unarmed civilians. An underground resistance movement spearheaded by students came into being to fight the The year 1971 saw the eastern half of Pakistan (now Bangladesh) rise in revolt against the military regime of the country which had unleashed a reign of terror to crush the people's demand for independence. There were indiscriminate killing, burning and looting of the unarmed civilians. An underground resistance movement spearheaded by students came into being to fight the oppressor. A full-fledged war of liberation ensued. The breathtaking events of 1971 are faithfully recorded in the present volume. It is a first-hand account by the author who along with her son and husband took an active part in the struggle for freedom. She had herself witnessed some of the events. For the rest she gathered facts from authentic sources. Written in the form of a diary, -the book was originally published in Bengali. This English rendering of it now presents the story of Bangladesh's war of independence to a larger audience.


Compare

The year 1971 saw the eastern half of Pakistan (now Bangladesh) rise in revolt against the military regime of the country which had unleashed a reign of terror to crush the people's demand for independence. There were indiscriminate killing, burning and looting of the unarmed civilians. An underground resistance movement spearheaded by students came into being to fight the The year 1971 saw the eastern half of Pakistan (now Bangladesh) rise in revolt against the military regime of the country which had unleashed a reign of terror to crush the people's demand for independence. There were indiscriminate killing, burning and looting of the unarmed civilians. An underground resistance movement spearheaded by students came into being to fight the oppressor. A full-fledged war of liberation ensued. The breathtaking events of 1971 are faithfully recorded in the present volume. It is a first-hand account by the author who along with her son and husband took an active part in the struggle for freedom. She had herself witnessed some of the events. For the rest she gathered facts from authentic sources. Written in the form of a diary, -the book was originally published in Bengali. This English rendering of it now presents the story of Bangladesh's war of independence to a larger audience.

30 review for Of Blood And Fire: The Untold Story Of Bangladesh's War Of Independence

  1. 5 out of 5

    Daina Chakma

    বইয়ের রিভিউ অন্য কোনোদিন লিখবো। আজ শুধু দুটো কথা বলি। ১। বাংলা সাহিত্যের অবশ্যপাঠ্য বইয়ের লিস্টে এই বইটা না থাকাটা রীতিমতো ক্রাইম। আমি খুব উদার মনের মানুষ। পাঠকের নিজস্ব রুচির ভিন্নত্বে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। কিন্তু এই বই যারা পছন্দ করেনি তাদের আমি জাজ করি। ২। মিউজিয়ামের মধ্যে স্মৃতি ধরে রাখার ব্যাপারটা অসাধারণ! কোনো একটা স্পেশাল ইভেন্ট কিংবা মানুষকে খুব সহজে মনে রাখা যায় সেইসব স্মৃতির মধ্য দিয়ে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম- "চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে আমার না-থাকা জুড়ে"। এলিফ্যান্ট রোডে বইয়ের রিভিউ অন্য কোনোদিন লিখবো। আজ শুধু দুটো কথা বলি। ১। বাংলা সাহিত্যের অবশ্যপাঠ্য বইয়ের লিস্টে এই বইটা না থাকাটা রীতিমতো ক্রাইম। আমি খুব উদার মনের মানুষ। পাঠকের নিজস্ব রুচির ভিন্নত্বে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। কিন্তু এই বই যারা পছন্দ করেনি তাদের আমি জাজ করি। ২। মিউজিয়ামের মধ্যে স্মৃতি ধরে রাখার ব্যাপারটা অসাধারণ! কোনো একটা স্পেশাল ইভেন্ট কিংবা মানুষকে খুব সহজে মনে রাখা যায় সেইসব স্মৃতির মধ্য দিয়ে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম- "চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে আমার না-থাকা জুড়ে"। এলিফ্যান্ট রোডে ইষ্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীতে ছোট্ট একটা গলি আছে। সেই গলিকে চিনতে হয় গ্রামীণ সুইটমিটের গলি পরিচয়ে। অথচ গলির শেষ মাথায় একটা জাদুঘর আছে। গলিটা জাদুঘরের নামেও পরিচিতি পেতে পারতো। জাদুঘর ব্যাপারটা শুনলে আমার কল্পনায় চলে আসে অনেকটা জায়গা জুড়ে দাড়িয়ে থাকা প্রাচীর ঘেরা সাদা দালান। বাইরে বিশাল বড় একটা গেইট থাকবে। বড় বড় হরফে গেইটের উপরে প্লেকার্ডে জাদুঘরের নাম লেখা থাকবে। কল্পনার সাথে কখনওই বাস্তবের মিল থাকেনা। তাই শহীদ জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘরের বাইরের পরিবেশ দেখে কিছুটা মন খারাপ হয়েছিল। জননীর স্মৃতি সংরক্ষিত জাদুঘর একটা গুপচি গুলির ভেতর এমন অনাড়ম্বরভাবে পড়ে থাকবে এমনতো কথা ছিলনা! জাহানারা ইমামের পুরোনো দোতলা বাড়ি "কণিকা" আর নেই। বাড়ির সামনে লন নেই। বাগানজুড়ে ফুল নেই। খুব সাদামাটা একটা ফ্লাটবাড়ি আছে। ফ্লাটবাড়ির ফার্স্ট ফ্লোরকে করা হয়েছে ঘরোয়া ধাঁচের একটা জাদুঘর। সেখানে খুব শান্তি শান্তি ভাব আছে। মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সন্তান রুমী, তার ভাই জামী, দেশপ্রেমিক পিতা শরিফুল আলম ইমাম, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের অসংখ্য স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ডকুমেন্ট আর বই দিয়ে সাজানো খুব সাদাসিধে অথচ কি অসাধারণ একটা জাদুঘর! ব্যাকগ্রাউন্ডে সবসময় জাগরণের গান বাজতে থাকে। জাদুঘরে রুমীর সিগনেচার পোজে দাঁড়ানো সেই বিখ্যাত ছবিটা আছে, নিচে ক্যাপশন- "আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে"। জন্মদিনে গিফট পাওয়া তার প্রিয় এয়ারগানটি দেয়ালে ঝোলানো। তার ছোটবেলায় লেখা শপথবাক্য বাঁধানো আছে যেটা পাঠ করে বোঝা যায় কি অসাধারণ একজন সন্তান ছিল রুমী! রুমীর চাইতে অসাধারণ কোনো সন্তান আর কোনো মায়ের গর্ভে জন্মাতে পারেনা! জাহানারা ইমামের বিয়ে হয়েছিল খুব সাদাসিধে ভাবে। কোনো সোনার অলংকার ছাড়াই শুধু রজনীগন্ধার মালা পড়ে যৌতুক বিহীন একটা বিয়ে হয়েছিল। সম্ভবত সে যুগের প্রথম যৌতুকবিহীন বিয়ে ছিল তাদের বিয়েটা। তাদের বিয়ের সেই সুখী সুখী ছবিটা দেখলে মন ভরে যায়। ছোট্ট একটা লাল টেলিভিশন আর একটা লাল ক্যাসেট প্লেয়ার ছিল আম্মার। একটা সাইকেল রানার ছিল যেটা দেখে বোঝা যায় যুগের চাইতেও কত আধুনিকমনা ছিলেন তিনি! সেগুলো খুব যত্নে জাদুঘরে সংরক্ষীত আছে। এবার একটা মন খারাপের কথা বলি। জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৭ সালের ২৪ জুন। সাইফ ইমাম জামীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে। অথচ প্রতিষ্ঠার এতগুলো বছর পরেও জাদুঘরকে নিয়ে কোনো প্রচারণা নেই। কিন্তু এটা তো হতে পারেনা! কেন "শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর" কে সবাই এক নামে চিনবে না?? দেশের জাতীয় সম্পদ ছোট একটা গলির মধ্যে অনাদরে পড়ে থাকবে অথচ কেউ সেটার খোঁজ পাবেনা এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না! যারা জননীকে ভালবাসে, রুমীকে ভালবাসে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, দেশকে নিয়ে কোনোদিন একটু হলেও ভেবেছে তাদের সবার শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে আসা উচিত। N.B. জাদুঘর খোলা থাকে প্রতি শনিবার দশটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত। ১টা থেকে ২টা এই সময়টা বিরতি।

  2. 4 out of 5

    সালমান হক

    "সারা ঢাকার লোক একই সঙ্গে হাসছে আর কাঁদছে । স্বাধীনতার জন্য হাসি। কিন্তু হাসিটা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এত বেশী রক্তে দাম দিতে হয়েছে কান্নার স্রোতেও হাসি ডুবে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে। " বইটা শেষ করার পর আমার অবস্থাও এরকম। বেশী খুশী হতে পারছি না, শেষের দিকের বিজয়ের দিনগুলার বর্ণনা পড়েও। এর জন্যে যে মূল্য দিতে হয়েছে তা যে একটু বেশীই চড়া। নি:সন্দেহে আমার পড়া সেরা মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি। আমি মুক্তিযদ্ধ দেখি নি। কিন্তু বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যে যা ঘটছে একদম আমার চোখের সামনে ঘটছে। আমিও অংশ নিচ্ছি। ব "সারা ঢাকার লোক একই সঙ্গে হাসছে আর কাঁদছে । স্বাধীনতার জন্য হাসি। কিন্তু হাসিটা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এত বেশী রক্তে দাম দিতে হয়েছে কান্নার স্রোতেও হাসি ডুবে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে। " বইটা শেষ করার পর আমার অবস্থাও এরকম। বেশী খুশী হতে পারছি না, শেষের দিকের বিজয়ের দিনগুলার বর্ণনা পড়েও। এর জন্যে যে মূল্য দিতে হয়েছে তা যে একটু বেশীই চড়া। নি:সন্দেহে আমার পড়া সেরা মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি। আমি মুক্তিযদ্ধ দেখি নি। কিন্তু বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যে যা ঘটছে একদম আমার চোখের সামনে ঘটছে। আমিও অংশ নিচ্ছি। বইটা পড়ার পর বুঝলাম যে শুধু ফ্রন্ট এই না প্রতিটা বাঙ্গালী ভেতরে ভেতরে যে যেভাবে পেরেছে যুদ্ধ করেছিল শত্রুবাহিনীর সাথে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বাঙ্গালীর প্রতি শ্রদ্ধা।

  3. 5 out of 5

    মাশুদুল হক

    খুব ভাল লেগেছিল যখন জানতে পারি আমাদের দেশের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে বইটা পাঠ্যবই। সব মিডিয়ামেই এ বইটাকে পাঠ্য করা উচিত ছিল- জানি তা হবে না- কারন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কেউই সেটা চাইবে না। আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন শহুরে মানুষের জীবন, সে সময়ের ভাবনা জানার জন্য এরচেয়ে ভাল বই বোধহয় নেই।

  4. 4 out of 5

    Farzana Raisa

    গল্প শুনবে? একদল পাগলাটে ছেলের গল্প? রোমাঞ্চ, উত্তেজনা আর পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি.. এমন অভিযানের গল্প? তাহলে কিছুক্ষনের জন্য ঘুরে আসা যাক ১৯৭১ সাল থেকে... গল্প শুরুর আগে নায়কদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। রুমি, বদি, আজাদ, জুয়েল, আলভী.. এমনি নাম না জানা আরও অনেক অনেক ছেলে। নিজের দেশকে অনাচার,অত্যাচার থেকে বাঁচাবে বলে যুদ্ধে গেল। যুদ্ধ কি আর এমনি এমনি হয় ? প্রশিক্ষন লাগে, অস্ত্র লাগে, সাহস লাগে। সবচেয়ে বেশি যা লাগে তা হল দেশপ্রেম। ওই পাগল ছেলেগুলোর অন্য কিচ্ছু ছিল না.. অস্ত্র না, প্রশিক্ষন না.. ছিল গল্প শুনবে? একদল পাগলাটে ছেলের গল্প? রোমাঞ্চ, উত্তেজনা আর পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি.. এমন অভিযানের গল্প? তাহলে কিছুক্ষনের জন্য ঘুরে আসা যাক ১৯৭১ সাল থেকে... গল্প শুরুর আগে নায়কদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। রুমি, বদি, আজাদ, জুয়েল, আলভী.. এমনি নাম না জানা আরও অনেক অনেক ছেলে। নিজের দেশকে অনাচার,অত্যাচার থেকে বাঁচাবে বলে যুদ্ধে গেল। যুদ্ধ কি আর এমনি এমনি হয় ? প্রশিক্ষন লাগে, অস্ত্র লাগে, সাহস লাগে। সবচেয়ে বেশি যা লাগে তা হল দেশপ্রেম। ওই পাগল ছেলেগুলোর অন্য কিচ্ছু ছিল না.. অস্ত্র না, প্রশিক্ষন না.. ছিল শুধু দেশপ্রেম আর সাহস। আর আত্মবিশ্বাস ছিল কিছু একটা করে দেখানোর। তাইতো মা-বাবার আদর ছেড়ে, পড়াশোনাকে আপাতত মুলতুবি রেখে ছুটল প্রশিক্ষন নেয়ার জন্য। ট্রেনিং নিয়ে দেশে এসে হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে যে! প্রশিক্ষন নিতে গেল ইন্ডিয়ার মেলাঘরে, সেখানে তাদের সে কি কষ্ট! খাবার পানির সংকট, খাবারের সংকট, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র নেই, অস্ত্রের সংকট আরো কত্ত কি অসুবিধা! তার পরেও তারা বিন্দাস আছে.. এইতো কদিন পর যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করে ফেলবে.. তখন আর কোন কষ্ট থাকবে না। একে একে শেষ হয় রুমি, বদি, আজাদ, জুয়েলদের ট্রেনিং। অসম সাহসী ছেলেদেরকে নিয়ে বানানো হয় গেরিলা বাহিনীর বিশেষ স্কোয়াড। ক্র‍্যক প্লাটুন। তার আগে বলে দেই গেরিলাদের কাজ কি... ওরা হানাদার বাহিনীর উপর ঝটিকা আক্রমণ করত। যতটুকু সম্ভব ক্ষয় ক্ষতি করে আবারও ফুশ মন্তর ফুশ! বেশ কিছু হামলা সফল ভাবে করলও। ঢাকার সব জায়গায় গেরিলাদের জয়জয়কার। এমনও দিন গেছে গেরিলারা ঝটিকা হামলা চালাচ্ছে আর জনতা হাততালি দিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছে। এবারে বোঝ অবস্থা! সাধে কি আর বিচ্ছু বাহিনী বলা হত ওদের? এই বিচ্ছুদের একজন রুমি... তাঁর মা হলেন বিখ্যাত লেখিকা জাহানারা ইমাম। তিনি অবশ্য তখন বাংলাদেশের আরও আট-দশজন মায়ের মতই সাধারণ। যুদ্ধের পর যুদ্ধকালীন সময়ের দিনলিপি নিয়ে লেখেন ' একাত্তরের দিনগুলি '। কী আছে এ ডায়েরিতে ? একটা ছোট, সুখী পরিবারের এলোমেলো হয়ে যাবার গল্প। একটা দেশ ও দেশের মানুষকে করা অত্যাচার ও নিপীড়নের গল্প। হাসি আনন্দে মাখা কৈশোরকে ভয়াল বিভীষিকায় মাখিয়ে দেয়ার গল্প। চোখের সামনে প্রিয়জনের মৃত্যু দেখার গল্প। এ গল্প একদল যুবকের... যারা দেশকে ভালবাসার অপরাধে হারিয়ে গেছে চিরতরে... এ গল্প সাহসিকতার, হার না মানা একদল তরুণের.. সবচেয়ে বড় কথা.. এ গল্প এক মায়ের... যে তার নাড়ী ছেঁড়া ধনকে কোরবানি করে দিয়েছিল দেশের জন্য। এটা কি তাহলে দেশের গল্প? এই ডায়েরি শহীদ জননীর হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনায় ভরপুর নয় মাসের ভয়াল মুহূর্তগুলোর সাক্ষী। শহীদ জননীর চোখে দেখা একাত্তর। দেশের জন্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর ছেলে রুমিকে। দেশ তাঁর ছেলেকে তাঁর বুকে ফিরিয়ে দেয়নি ঠিক কিন্তু রুমি আজও বেঁচে আছে এ দেশের প্রতিটি ছেলের হৃদয়ে.. আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে আছে ওরা। আমরা যতদিন বাংলায় কথা বলবো, যতদিন আমরা বাংলাকে ভালোবাসবো ততদিন ওরা বেচে থাকবে আমাদের মাঝে।

  5. 4 out of 5

    Avishek Bhattacharjee

    সাহিত্যিকরা কত কষ্ট করেই নিজের মাথা খাটায় গল্পের প্লট বের করেন আর সেটা ছুড়ে দেন পাঠকদের হাতে। অখাদ্য হলে আমরা উগড়ে ফেলি আর সুখাদ্য হলে জাবর কেটেই যাই। কিন্তু কিছু বই জাবরও কাটা যায় না। মনে মনে থেকেই যায় সবসময়। ১৯৭১ প্রতিটা বাংগালীর জীবনে একটা অন্যরকম অধ্যায়। আমরা যারা যুদ্ধ দেখিনি তারা মনে করি ৯ মাস ব্যাপক ফাইট হইল আর আমরা জিতে গেলাম। ব্যাপারটা আসলে এত সহজ ছিলনা। সেটা কেমনে বুঝলাম?? এই একাত্তরের দিনগুলি পড়ে। এটাকে বই বলব? নাহ, এটা ডাইরি। সে সময়ের এক বাংগালী নারী দিনলিপিতে উঠে এসেছে সেই ভ সাহিত্যিকরা কত কষ্ট করেই নিজের মাথা খাটায় গল্পের প্লট বের করেন আর সেটা ছুড়ে দেন পাঠকদের হাতে। অখাদ্য হলে আমরা উগড়ে ফেলি আর সুখাদ্য হলে জাবর কেটেই যাই। কিন্তু কিছু বই জাবরও কাটা যায় না। মনে মনে থেকেই যায় সবসময়। ১৯৭১ প্রতিটা বাংগালীর জীবনে একটা অন্যরকম অধ্যায়। আমরা যারা যুদ্ধ দেখিনি তারা মনে করি ৯ মাস ব্যাপক ফাইট হইল আর আমরা জিতে গেলাম। ব্যাপারটা আসলে এত সহজ ছিলনা। সেটা কেমনে বুঝলাম?? এই একাত্তরের দিনগুলি পড়ে। এটাকে বই বলব? নাহ, এটা ডাইরি। সে সময়ের এক বাংগালী নারী দিনলিপিতে উঠে এসেছে সেই ভয়াল সময়ের বর্ণনা। আপনি কি কখনো ভাবতে পারেন আপনার জীবনের প্রতিটা মূহুর্তে আপনার ফিল হচ্ছে আপনি এখনি মরে যেতে পারেন। এরকম সময়ে আপনি ঠিক কদ্দিন এই মানসিক প্রেশার নিতে পারবেন?? আমার তোহ মনে হয় এখনি হার্টফেল করে ফেলব। এরকম ভয়াল সময়টা নিজের ডাইরিতে জাহানারা ইমাম তুলে ধরেছেন কখনো মা হিসবে, কখনো স্ত্রী হিসেবে আর কখনো যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে। মননশীল এই পরিবারের ছেলে রুমী, যে কিনা সে সময়ের আমেরিকার পড়ার হাতছানিকে উহ্য করে শুধু যুদ্ধেই যায়নি, দুঃসাহসী ক্রাক প্লাটুনের সদস্য হিসেবে যোগদান করে পাকবাহিনীকে কাপিয়ে দিয়েছিলেন। পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে শত অত্যাচারেও মুখ খোলেন নি। বরন করেছন শহীদের মর্যাদা। এসব গল্প শোনার পরে জেমস বন্ডের কাহিনী শুনার পরে হাসি পায়। আমি অনেক আগেই এ বইটি পড়েছি। কিন্তু রিভিউ লিখিনি। কারণ এ বইয়ের রিভিউ হয় না। শুধু স্যালুট হয়। যারা মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করতে চান, তাদের এ বইটি বাইবেল হিসেবে পড়া উচিৎ।

  6. 5 out of 5

    Aaynamoti

    একজন মা যখন বলেন "দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।" তখন সেই মায়ের প্রতি পাঠক হিসেবে কেমন অনুভূতি হতে পারে? দেশ-মাতৃকার প্রতি তাঁর আত্মনিবেদনের এই মহিমা ভাষায় প্রকাশ করা কী আদৌও সম্ভব? নাহ্, সে ব্যর্থ চেষ্টায় যাবার দুঃসাহস আমার নেই। এমন মা এবং তাঁর সন্তানের জন্য গর্ববোধে আক্রান্ত হতে পারি কেবল। তাঁর এই উৎসর্গের স্মরণের বেদীতে দু'ফোটা সশ্রদ্ধ অশ্রু রেখে দেয়া ছাড়া অসহায় পাঠক যেন বুঝে ওঠতে ব্যর্থ হয় ঠিক কিভাবে এই অবাক ইতিহাসের আখ্যানটিকে সম্মান জানানো যায়! এমন অনেক অনেক আ একজন মা যখন বলেন "দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।" তখন সেই মায়ের প্রতি পাঠক হিসেবে কেমন অনুভূতি হতে পারে? দেশ-মাতৃকার প্রতি তাঁর আত্মনিবেদনের এই মহিমা ভাষায় প্রকাশ করা কী আদৌও সম্ভব? নাহ্, সে ব্যর্থ চেষ্টায় যাবার দুঃসাহস আমার নেই। এমন মা এবং তাঁর সন্তানের জন্য গর্ববোধে আক্রান্ত হতে পারি কেবল। তাঁর এই উৎসর্গের স্মরণের বেদীতে দু'ফোটা সশ্রদ্ধ অশ্রু রেখে দেয়া ছাড়া অসহায় পাঠক যেন বুঝে ওঠতে ব্যর্থ হয় ঠিক কিভাবে এই অবাক ইতিহাসের আখ্যানটিকে সম্মান জানানো যায়! এমন অনেক অনেক আত্ম উৎসর্গের হাত ধরে এসেছে আমাদের স্বাধীনতা। কত মা যে তাঁর সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন, তার সবটুকু লেখা নেই সেভাবে। কিন্তু আমরা জানি, আমাদের আত্মার অংশ সবুজের বুকের লাল অংশটুকু কত কত বুকের রক্তে লাল হয়েছে। কত লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া সে পতাকা, স্বাধীনতা। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তাঁর আশ্চর্য নির্মোহ লেখনী দিয়ে লিখে গেছেন ১৯৭১ এর সেই উত্তাল দিনের ঘটনাচক্র। তাঁর শোক, তাঁর কষ্টের হাহাকারকে শব্দের আড়ালে রেখেই তিনি লিখে গেছেন দিনপুঞ্জীর মত এই অনন্য সাধারণ বইটি, যার নাম "একাত্তরের দিনগুলি"। যে সন্তানকে তিনি দেশ মাতৃকার জন্য উৎসর্গ করেন, তাঁর নাম শহীদ শাফি ইমাম রুমী। কী প্রখর সম্ভাবনাময় এক তরুণ ছিলেন রুমী। যাঁর পড়তে আসবার কথা ছিল ইলিনয় ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে। কিন্তু দেশে তখন যুদ্ধের ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে। স্বার্থপরের মত রুমী পালিয়ে না গিয়ে যুদ্ধে যাবার জন্য তৈরি হন....বাকিটা তো ইতিহাস। সে ইতিহাসের ধারাবাহিক এক নিবিড় প্রামান্য দলিল "একাত্তরের দিনগুলি।" এই বই বার বার পড়া যায়। আবারও পড়বো নিশ্চয়ই!

  7. 4 out of 5

    Wasee

    তৃতীয়বার।

  8. 5 out of 5

    Farhana

    গত দুইদিনে ৩-৪টা বই খুলে একটু আধটু করে পড়ে রেখে দিয়েছি , নিজের ভাষার বই পড়লে বোধহয় একটা আলাদা শান্তি, প্রিসাইজলি বললে একটা স্থিতি বোধহয় খুঁজে পাওয়া যায়। It liquidated me inside. একাত্তরের সমসাময়িক সময়ের যে কয়টা স্মৃতিকথা পড়েছি তার মধ্যে এটা সব থেকে detailed. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর ডায়রিতে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সরব থাকলেও ৭১ নিয়ে তেমন কিছুই যোগ করেন নি। সুফিয়া কামালের ডায়রিটা এটার মত দৈর্ঘ্যে এতখানি বিপুল ছিল না কিন্তু ভালো। হুমায়ূন আহমেদ আর জাফর ইকবালের তাঁদের বাবা এবং ৭১ গত দুইদিনে ৩-৪টা বই খুলে একটু আধটু করে পড়ে রেখে দিয়েছি , নিজের ভাষার বই পড়লে বোধহয় একটা আলাদা শান্তি, প্রিসাইজলি বললে একটা স্থিতি বোধহয় খুঁজে পাওয়া যায়। It liquidated me inside. একাত্তরের সমসাময়িক সময়ের যে কয়টা স্মৃতিকথা পড়েছি তার মধ্যে এটা সব থেকে detailed. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর ডায়রিতে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সরব থাকলেও ৭১ নিয়ে তেমন কিছুই যোগ করেন নি। সুফিয়া কামালের ডায়রিটা এটার মত দৈর্ঘ্যে এতখানি বিপুল ছিল না কিন্তু ভালো। হুমায়ূন আহমেদ আর জাফর ইকবালের তাঁদের বাবা এবং ৭১ নিয়ে যে স্মৃতিকথা সেখানে হুমায়ূন আহমেদের লেখা অংশটুকু বরাবরের মত তাঁর লেখায় যে একটা ভাবালুতা তৈরির চেষ্টা সেটা ছিল । জাহানারা ইমামের লিখাটা অনেক খানি জায়গা জুড়ে ফোকাস করা ।

  9. 4 out of 5

    Akhtaruzzaman Shohag

    জাহানারা ইমাম এর ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইটি পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে এ যেন কোন এক মা তার আদরের সবটুকু পেলব মিশিয়ে অক্ষরের জালে বুনেছেন এক নকশী কাঁথা। যার ফোঁড়ে ফোঁড়ে রয়েছে সুচ-ফোটা যন্ত্রণা, রয়েছে মশালের জৌলুশ, বারুদের গন্ধ, মুহুর্মুহু গুলির ঝংকার। আরও রয়েছে বিশ্বাসঘাতকদের প্রবঞ্চনার দগদগে ঘা, রয়েছে উদ্বিগ্ন মায়ের বিনিদ্র রাত্রিযাপনের রুদ্ধশ্বাস বয়ান। ১লা মার্চ ১৯৭১ থেকে ১৭ই ডিসেম্বর ১৯৭১। জাহানারা ইমাম এ বইটিতে তুলে এনেছেন এই সময়টাকে, তাঁরই ব্যক্তিগত দিনলিপি আকারে। বইটি পড়তে গিয়ে এক সময জাহানারা ইমাম এর ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইটি পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে এ যেন কোন এক মা তার আদরের সবটুকু পেলব মিশিয়ে অক্ষরের জালে বুনেছেন এক নকশী কাঁথা। যার ফোঁড়ে ফোঁড়ে রয়েছে সুচ-ফোটা যন্ত্রণা, রয়েছে মশালের জৌলুশ, বারুদের গন্ধ, মুহুর্মুহু গুলির ঝংকার। আরও রয়েছে বিশ্বাসঘাতকদের প্রবঞ্চনার দগদগে ঘা, রয়েছে উদ্বিগ্ন মায়ের বিনিদ্র রাত্রিযাপনের রুদ্ধশ্বাস বয়ান। ১লা মার্চ ১৯৭১ থেকে ১৭ই ডিসেম্বর ১৯৭১। জাহানারা ইমাম এ বইটিতে তুলে এনেছেন এই সময়টাকে, তাঁরই ব্যক্তিগত দিনলিপি আকারে। বইটি পড়তে গিয়ে এক সময় লেখিকাকে মনে হয় খুব আপনার। আপন করে নিই তাঁর সন্তান রুমী-জামীকে। আত্মীয়তায় বাঁধা পড়ে যান তাঁর সংগ্রামী দেশপ্রেমিক স্বামী শরীফ ইমামও। লেখিকা যখন উত্তাল মার্চের কথা বলেন তখন উত্তপ্ত বাতাসের হলকা ছুঁয়ে যায় আমাকেও। জননী যখন ৭ই মার্চের কথা লেখেন তখন আমিও যেন নিজেকে আবিষ্কার করি রুমী-জামী-শরীফ কিংবা কাজের লোক সুবহান-বারেকের পাশে, অধীর আগ্রহে বসে থাকি ‘শেখের’ বক্তৃতা শুনব বলে। স্পষ্ট দেখতে পাই সেই মানুষগুলোকে যারা চব্বিশ ঘণ্টার পথ পায়ে হেঁটে গামছায় চিড়ে-গুড় বেঁধে সেদিন হাজির হয়েছিল রেসকোর্স ময়দানে। তখন আমার জন্মও হয়নি। অথচ বইটি পড়তে গিয়ে ২৫ শে মার্চের কালো রাত আমার সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে। নিজের কাছে প্রশ্ন করি, আসলে কি কালো ছিল রাতটা? নাকি আগুনের লেলিহান শিখা আর রক্তের ফল্গুধারায় সেজেছিল সে রক্তকরবী! বইয়ের পাতা উল্টাতেই পুড়ে যেতে দেখি ঘরবাড়ি, বস্তি, কাঁচা-বাজার। সেই সাথে মানুষও। মুহুর্মুহু গুলিতে কেঁপে উঠতে দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। আরও এগোলে আঁৎকে উঠি পাকিস্তানী নরপিশাচদের হাতে নির্মমভাবে নিরস্ত্র বাঙালিদের জবাই হতে দেখে। বইয়ের পাতায় পাতায় দেখতে পাই বিহারিদের নৃশংসতা, ধারালো ছুরির দেবে যাওয়া তাজা মানুষের গলায়। বইটি পড়তে গিয়ে জানতে পারি তখন রুমীর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাওয়া ঠিক হয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। কিন্তু দেশের সেই ক্রান্তিলগ্নে লেখাপড়া করে মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়াটা রুমীর কাছে বড্ড ‘সেকেলে’ মনে হয়। মায়ের কাছে তাই সে বিদেশে পড়তে যাওয়ার বদলে অনুমতি ভিক্ষা করে যুদ্ধে যাওয়ার। যুদ্ধে যাওয়ার আগের দিন রাতে রুমী মায়ের কাছে বায়না ধরে, ‘আম্মা, আজকে একটু বেশি সময় মাথা বিলি করে দিতে হবে কিন্তু।’ সেদিন ছোটভাই জামীও উদার। বলে ওঠে, ‘মা, আজ আর আমার মাথা বিলি করার দরকার নেই। ওই সময়টাও তুমি ভাইয়াকেই দাও।’ মা রুমীর মাথার চুলে বিলি কেটে দিতে থাকেন। আমার চোখ ভিজে আসে, ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি। শহীদ জননী বলেছিলেন ‘দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।’ তাই রুমী যুদ্ধে যাচ্ছে, টের পাই। কোন পিছুটান নেই তাঁর। কাঁধে এয়ারব্যাগ, তার মধ্যে টুকটাক কাপড়-চোপড়, তোয়ালে, সাবান, স্যান্ডেল আর দু’টো বই- ‘জীবনানন্দের শ্রেষ্ট কবিতা’ আর ‘সুকান্ত সমগ্র’। মেলাঘর থেকে ট্রেনিং নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে রুমী, বিশেষ অপারেশনে। তাঁর বয়ানে শুনি ‘রূপকথার চেয়েও রোমাঞ্চকর’ সব কাহিনী; রক্ত পানি করা ট্রেনিং, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা শুশ্রূষার জন্য হাসপাতাল স্থাপন, তাদের অপারেশনের রোমহর্ষক বর্ণনা। পাক আর্মিদের চোখের পলকে ধরাশায়ী করে হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া, কিংবা সেতু, পাওয়ার স্টেশন ইত্যাদি উড়িয়ে দেওয়ার গল্প শুনে গর্বিত হয়ে উঠি সেই সব গেরিলাদের জন্য যারা জানে, ‘কোন স্বাধীন দেশ জীবিত গেরিলা চায় না; চায় রক্তস্নাত শহীদ।’ আগস্টের শেষে এসে দেখি তথাকথিত ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক’ রাজাকারদের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রুমী-জামী-শরীফদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রেপ্তার হয় আরও অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে। উদ্ধার হয় বিপুল অস্ত্রশস্ত্র। সবার উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এক সময় শরীফ-জামী-অন্যান্যরা বাড়ি ফিরে এলেও রুমী আর ফিরে আসে না। সময় প্রবাহিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ দানা বাঁধতে থাকে। বাংলার টগবগে দামাল ছেলেদের গেরিলা বাহিনী, তাদের সহযোগী ভারতীয় মিত্র বাহিনী। তাদের আক্রমণের তীব্রতায় নাজেহাল হতে থাকে পাক-বাহিনী। যখন স্বাধীনতার সূর্য পুব আকাশ রাঙিয়ে উঠবে উঠবে করছে, ঠিক সেই সময়, ১৩ই ডিসেম্বর লেখিকা হারান তার স্বামী শরীফ ইমামকে। জননী লিখে যান, ‘আকাশের বুকেও অনেক ব্যথা। তার কিন্তু আমার মতো চেপে রাখার দায় নেই।’ বইটিতে তাই লক্ষ্য করি, জননী ‘চেপে রাখার দায়’ নিয়ে, বুকের কষ্ট বুকেই দাফন করে সময়ের নির্যাস তুলে রাখেন তাঁর রোজনামচায়। সে রোজনামচায় দেখা মেলে ২৫শে মার্চের বর্বরোচিত হামলার পরেও কিভাবে বাঙালি ঘুরে দাঁড়াল, শোক কিভাবে তাদের হৃদয়ে শক্তির বীজ বুনল। যারা বাঙালির রক্তক্ষয়ী সে সংগ্রামের ইতিহাস বক্ষে ধারন করে হতে চান সত্যাগ্রহী, তাদের জন্য ‘একাত্তরের দিনগুলি’ এক অবশ্য-পাঠ্য গ্রন্থ বলে মনে করি, পরিশেষে এই একটি কথাই বলব।

  10. 4 out of 5

    Rifat

    Farzana Raisa আপুর রিভিউ এর ১ম লাইন অনুসরণ করে মনে হলো, ৭১ এর বর্ণনা শুনতেই মনে হয় বেশি ভালো লাগে। শুনতে শুনতে হঠাৎ করেই গা শিউরে ওঠে,পশমগুলো দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড ধরে। তারপর বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এই বইটির একটি কপি ঘরে রেখে দেয়া দরকার। ঘরের ভেতর বইখানা নাম প্রদর্শন করে যাবে দীর্ঘ সময় ধরে,প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে; কেউ না কেউ নিশ্চয়ই আগ্রহ দেখাবে,জানতে চাইবে এদেশ কি করে এল! হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ ! হঠাৎ বাংলাদেশ 🎵 এই বইয়ের কিছু অংশ পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম বছর কয়ে Farzana Raisa আপুর রিভিউ এর ১ম লাইন অনুসরণ করে মনে হলো, ৭১ এর বর্ণনা শুনতেই মনে হয় বেশি ভালো লাগে। শুনতে শুনতে হঠাৎ করেই গা শিউরে ওঠে,পশমগুলো দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড ধরে। তারপর বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এই বইটির একটি কপি ঘরে রেখে দেয়া দরকার। ঘরের ভেতর বইখানা নাম প্রদর্শন করে যাবে দীর্ঘ সময় ধরে,প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে; কেউ না কেউ নিশ্চয়ই আগ্রহ দেখাবে,জানতে চাইবে এদেশ কি করে এল! হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ ! হঠাৎ বাংলাদেশ 🎵 এই বইয়ের কিছু অংশ পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম বছর কয়েক আগে।তখনও আমার মফস্বলের স্কুলটিতে ম্যাম শব্দের প্রচলন হয় নি। ম্যাডাম ক্লাসে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন; কয়েকটা পার্ট সিলেক্ট করে দিয়ে বললেন তোমরা পড়ো, পড়া ধরবো।আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,'রিফাত! সব ভালো করে পড়া হয়েছে?' আমি ঘাড় নাড়লাম।ম্যাডাম মুখ টিপে একটা হাসি দিয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন, আমি উত্তর দিতে পারি নি। উত্তরটা ছিল সোমবার। ভারী অবাক লাগে! যিনি এই সত্যগল্প লিখেছিলেন তিনিও নেই আর যিনি আমাকে প্রথম এই গল্প শুনিয়েছিলেন তিনিও চলে গেছেন বছর দুই আগে! আমার আর কিছু বলার নেই। শুধু জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা হয় - একাত্তরের দিনগুলি কেমন ছিল !কেমন ছিল যুদ্ধে যাওয়া যোদ্ধাদের পরিবারের অবস্থা! জানতে ইচ্ছা করে না !? ইচ্ছা করলে গল্প কথন by কল্লোল এর প্লে লিস্ট থেকে শুনতে পারেন পুরোটা। ~ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

  11. 5 out of 5

    Marzia Amin

    বইটি আসলেই অসাধারণ। এটি একটি আশ্চর্যজনক গল্প, জাহানারা ইমাম একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ছেলে এবং স্বামীকে হারিয়েছিলেন এটি তাঁর জন্য একটি বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল, তবে তার পুরো পরিবার যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। এবং জাহানারা ইমামের রুমিকে হারানোর যে কষ্ট তা আসলেই কোন ভাষায় বক্তা করা যায় না।

  12. 5 out of 5

    Zerin Hasan

    আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু মায়ের বইয়ের মাধ্যমে আমি তার শ-ভাগের দুই ভাগ অনুভব করতে পেরেছি.. মাত্র ৫টি স্টার কম হয়ে যায় বইটার জন্য!! আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু মায়ের বইয়ের মাধ্যমে আমি তার শ-ভাগের দুই ভাগ অনুভব করতে পেরেছি.. মাত্র ৫টি স্টার কম হয়ে যায় বইটার জন্য!!

  13. 4 out of 5

    Ishani

    The first war memoir I read. Its the pages of author’s diary compiled in a book and is based on the happenings of the Bangladesh Liberation war of 1971. This being the format of the book, there can only be a reader’s feelings about the entire episode but not a review. Jahanara Imam was from Dhaka, the then center (not yet capital) of East Pakistan, and since most of the war was fought, directed and planned from Indo-East Pak border, she documents the horrors and some glimpses of the aimless massa The first war memoir I read. Its the pages of author’s diary compiled in a book and is based on the happenings of the Bangladesh Liberation war of 1971. This being the format of the book, there can only be a reader’s feelings about the entire episode but not a review. Jahanara Imam was from Dhaka, the then center (not yet capital) of East Pakistan, and since most of the war was fought, directed and planned from Indo-East Pak border, she documents the horrors and some glimpses of the aimless massacre and the fetish of killing people by West Pakistan as narrated by her relatives and friends who survived those. It focusses on the guerrilla activities of Muktibahini in Dhaka and indirect accounts in the border areas. Its not a detailed or a researched account of the ABC of the war - how it started, what all happened and how it ended. This is all that the general people of Dhaka felt saw and lived through. There are bone chilling incidences that most of the people don’t know about. Its not possible for us to imagine to go through that ordeal. The only thing which could have completed the book was a brief description of why the Bangladeshis wanted freedom. Otherwise people with no prior knowledge may find it just another separatist movement which it was not. The author lost almost everything but she survived. This book is the original Bengali version. But people should read the English translation of it to know the barbaric activities West Pakistan (now simply Pakistan) met out to Bangladeshis (then east pakistanis).

  14. 4 out of 5

    সাকিব জয়

    একাত্তরের দিনগুলি ও আমার কিছু অনুভুতি গল্প টা আমাদের । আমাদের আশে পাশের প্রতিটি মানুষের সাথে জড়িয়ে আছে এই গল্পের সূতো। নিয়তির অমোঘ টানে বাধা পড়েছি জড়িয়ে গিয়েছি এই গল্পের মাঝে । একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধ দেখেছেন আপনি ? আপনি দেখেছেন এক মুক্তি যোদ্ধার বুকের ভেতরের জমে উঠা হাহাকার ? মানুষ কেন বেপোরোয়া হয়ে উঠে জানেন ? জীবনের মায়া ত্যাগ করে কখন ঝাপিয়ে পড়ে হাতে একটা স্টেন গান নিয়ে ? আপনার মা , বোন , সহধর্মিনী স্ত্রী কে চোখের সামনে ধর্ষণের দৃশ্য সহ্য করার মতো ক্ষমতা আছে আপনার ? মুক্তিযুদ্ধে যোদ্ একাত্তরের দিনগুলি ও আমার কিছু অনুভুতি গল্প টা আমাদের । আমাদের আশে পাশের প্রতিটি মানুষের সাথে জড়িয়ে আছে এই গল্পের সূতো। নিয়তির অমোঘ টানে বাধা পড়েছি জড়িয়ে গিয়েছি এই গল্পের মাঝে । একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধ দেখেছেন আপনি ? আপনি দেখেছেন এক মুক্তি যোদ্ধার বুকের ভেতরের জমে উঠা হাহাকার ? মানুষ কেন বেপোরোয়া হয়ে উঠে জানেন ? জীবনের মায়া ত্যাগ করে কখন ঝাপিয়ে পড়ে হাতে একটা স্টেন গান নিয়ে ? আপনার মা , বোন , সহধর্মিনী স্ত্রী কে চোখের সামনে ধর্ষণের দৃশ্য সহ্য করার মতো ক্ষমতা আছে আপনার ? মুক্তিযুদ্ধে যোদ্ধারা কি বুলেট ব্যাবহার করেছে জানেন ? একেকটি বুলেটের মাঝে ছিল ভালোবাসা , হাহাকার , ক্ষোভ দাবির প্রতিচ্ছবি । নিজের ছেলেকে দেশের জন্য কোরবানী করার অনুভুতি কি আপনার আছে ? পারবেন নিজের ছেলেকে কোরবানী করতে দেশের জন্য ? হয়তো পারবেন হয়তো পারবেন না , আর সব প্রশ্ন কিন্তু উত্তরের আশায় জন্মও নেয় না । হৃদয়কে পাথর করে, বুকের গহীনে বহন করা বেদনাকে সংহত করে দুঃখের নিবিড় অতলে ডুব দিয়ে তুলে আনি বিন্দু বিন্দু মুক্তোদানার মতো অভিজ্ঞতার সকল নির্যাস। আমরা ফিরে তাকাই আমাদের চরম শোক ও পরম গৌরবে মন্ডিত মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলোর দিকে। এক মুক্তিযোদ্ধার মাতা, এক সংগ্রামী দেশপ্রেমিকের স্ত্রী, এক দৃঢ়চেতা বাঙালি নারী আমাদের সকলের হয়ে সম্পাদন করেছেন এই কাজ। বুকচেরা আর্তনাদ নয়, শোকবিহ্বল ফরিয়াদ নয়, তিনি গোলাপকুঁড়ির মতো মেলে ধরেছেন আপনকার নিভৃততম দুঃখ অনুভূতি। তাঁর ব্যক্তিগত শোকস্মৃতি তাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় আমাদের সকলের টুকরো টুকরো অগণিত দুঃখবোধের অভিজ্ঞতার সঙ্গে, তাঁর আপনজনের গৌরবগাঁথা যুক্ত হয়ে যায় জাতির হাজারো বীরগাঁথার সঙ্গে। রুমী বুঝি কোন অলক্ষ্যে হয়ে যায় আমাদের সকলের আদরের ভাইটি, সজ্জন ব্যক্তিত্ব শরীফ প্রতীক হয়ে পড়েন রাশভারী স্নেহপ্রবণ পিতৃরূপের। কিছুই আমরা ভুলবো না, কাউকে ভুলবো না, এই অঙ্গীকারের বাহক জাহানারা ইমামের গ্রন্থ নিছক দিনলিপি নয়, জাতির হৃদয়ছবি ফুটে উঠেছে এখানে। 'মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়' এই অমর পঙক্তির মর্মার্থ সামনে রেখে আমরা স্মরণ করতে পারি এক বাঙালি নারী, গৃহবধূ, লেখিকা এবং লড়াকু জননী জাহানারা ইমামকে। স্বাধীনতা — উত্তর বাংলাদেশে এক জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের মানুষের কাছে হয়ে ওঠেন প্রেরণা ও আস্থার ধ্রুবলোক। তাঁর মধ্য দিয়ে সব অপূর্ণতা পূর্ণ, খন্ড অখন্ডের সঙ্গতি পেয়ে থাকে; আর তিনি জীবনবেদ থেকে উৎসারিত জায়মান চেতনা ছড়িয়ে দেন দুঃসময়ে অসহায় মানবাত্মার সম্পূর্ণ মুক্তির উদ্দেশ্যে। কিছু কিছু বই থাকে যাকে নোবেল দিলেও মনে হয় না যে তাকে যথার্থ সম্মান দেয়া হবে । থাকে এমন কিছু বই যাকে শুধু বই হিসেবে পড়া যায় না । আসলে বলতে চেয়েছি আবেগ এসে যায় বইয়ের পাতায় । চোখের জ্বলুনিকে কে হয়তো আপনি তেমন একটা উপেক্ষা করতে পারবেনই না । আবেগ নাড়া দিয়ে যাবে । অদ্ভুদ লেখনী মন ছুয়ে যাবে । মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ার মতো আপনার মনের জানালায় দাগ বসিয়ে দিয়ে যাবে ঘ্যাচ করে । কাদতে চাইবেন না

  15. 4 out of 5

    Tirtha Nandi

    এক কথায় অসাধারণ, অনবদ্য, অতুলনীয়। এই উপন্যাস পাঠ্যপুস্তকে সামিল করা উচিত। তাহলে দেশে পাকি প্রেমী কমবে আর দেশপ্রেমিক বাড়বে।

  16. 5 out of 5

    Saiful Sourav

    এ বইটা রেট করতে চাই না। কিছু বই থাকুক না রেট করা। যখন পড়ছিলাম, পৃষ্ঠা কয়েক পড়েই উঠে পড়ছিলাম, বাইরে গিয়ে একটু হাওয়া খেয়ে আসছিলাম। একজন মা কতটা শক্ত হলে তার সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করেন যুদ্ধে যেতে। আর রুমিও যে মেধা ও মননে সেরাদের সেরা- এক পায়ে খাড়া যুদ্ধে যেতে! অন্যদের খবর নিতে কতটা ব্যাকুল ছিলেন জাহানারা ইমাম। এরা কেমন আছে, ওরা গ্রামের বাড়ি চলে গেছে কিনা, ওমুককে বলিস তো একবার সম্ভব হলে আসতে, তমুককে বলিস এখানে এসে থাকতে; একশটা প্রশ্ন রুমি ফিরলে। আর ডানপিটে সদ্য যুবক ছেলে সারা শহর গেরিলাপনা আর এ বইটা রেট করতে চাই না। কিছু বই থাকুক না রেট করা। যখন পড়ছিলাম, পৃষ্ঠা কয়েক পড়েই উঠে পড়ছিলাম, বাইরে গিয়ে একটু হাওয়া খেয়ে আসছিলাম। একজন মা কতটা শক্ত হলে তার সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করেন যুদ্ধে যেতে। আর রুমিও যে মেধা ও মননে সেরাদের সেরা- এক পায়ে খাড়া যুদ্ধে যেতে! অন্যদের খবর নিতে কতটা ব্যাকুল ছিলেন জাহানারা ইমাম। এরা কেমন আছে, ওরা গ্রামের বাড়ি চলে গেছে কিনা, ওমুককে বলিস তো একবার সম্ভব হলে আসতে, তমুককে বলিস এখানে এসে থাকতে; একশটা প্রশ্ন রুমি ফিরলে। আর ডানপিটে সদ্য যুবক ছেলে সারা শহর গেরিলাপনা আর শত্রু ঘায়েল খেলায় মত্ত, মুখে এক বিন্দু পানি তোলার সময়ই নেই। যেন সারা শহরের খোঁজ নেয়ার আর শত্রুমুক্ত করার দায়িত্ব তাদের মা-ছেলের শুধু! অভুক্ত যোদ্ধা কি পলায়নরত নাগরিক, কেউই তাদের বাসায় এসে খালি পেটে ফিরে যায় নি যুদ্ধের ভেতরেও। প্রতিটা শস্য-দানা সঞ্চয় করেছিলেন পরিচিত-অপরিচিত মানুষদের জন্য। মা তো থাকেন সুযোগ খুঁজে কিভাবে সন্তানের পাতে এক চামচ খাবার বেশি তুলে দেবেন সে চেষ্টায়। অথচ রুমি মারা গেল, শহীদ হল, তাঁর চোখের পানি হল গৌরবের অশ্রু। রুমি যুদ্ধে যাবে, শহীদ হবে আর তার জন্য জমা সঞ্চয় দেশের মানুষের পাতে তুলে দেবেন; জানতেন, তিনি জানতেন।

  17. 4 out of 5

    Abdullah Shafi

    এক মায়ের আবেগ ,তাঁর সন্তানের প্রতি ভালবাসার বিপরীতে দেশ ও আত্মমর্যাদা এ দৃঢ় মানসিকতার এক উজ্জ্বল দিনলিপি। লেখক অবশ্যই এক জন পরীক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে নিজেকে তখনই নিয়ে গিয়ে চিলেন।তাই বইটির সাহিত্যগুণ নিয়ে আলোচনা করা অর্থহীন। বইটা ১৯৭১ আর উত্তাল সময়ে রচিত।সে সময়ের বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বইটায়ে উঠে এসেছে। রুমি,বদি আজাদ, জুয়েল সহ ঢাকার ক্রাক প্লাটুনের অনেকের কথা আসে।ছেলের নিশ্চিত মৃত্যুর কথা জানা সত্তেও শুধুমাত্র দেশএর স্বার্থ ও শিত্রুর সামনে মাথা নিচু না করার প্রত্যয়ে মারশি পিটিশন করে এক মায়ের আবেগ ,তাঁর সন্তানের প্রতি ভালবাসার বিপরীতে দেশ ও আত্মমর্যাদা এ দৃঢ় মানসিকতার এক উজ্জ্বল দিনলিপি। লেখক অবশ্যই এক জন পরীক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে নিজেকে তখনই নিয়ে গিয়ে চিলেন।তাই বইটির সাহিত্যগুণ নিয়ে আলোচনা করা অর্থহীন। বইটা ১৯৭১ আর উত্তাল সময়ে রচিত।সে সময়ের বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বইটায়ে উঠে এসেছে। রুমি,বদি আজাদ, জুয়েল সহ ঢাকার ক্রাক প্লাটুনের অনেকের কথা আসে।ছেলের নিশ্চিত মৃত্যুর কথা জানা সত্তেও শুধুমাত্র দেশএর স্বার্থ ও শিত্রুর সামনে মাথা নিচু না করার প্রত্যয়ে মারশি পিটিশন করেন না লেখিকা। এই সময়ে যেকোনো মায়ের বুকে কি পরিমান হাহাকার চলে টা কল্পনা করাও অসম্ভব।কিন্তু, এসময়ে লেখিকা যে কিপরিমান সাহসিকতা আর কঠিন ভূমিকা নিয়েছএন বিশ্বাস করাও দুষ্কর। এক পর্যায়ে তাঁর স্বামীও তাকে ছেঁড়ে চলে যান না ফেরার দেশে। বলা যায় যুদ্ধই তাঁর কাস থেকে তাঁর ছেলে ও স্বামী কে কেড়ে নিএচিল।এই রকম সময়েও তিনি যন্ত্রণায়ে জর্জরিত হয়েও ডেয়ারি কন্তিনিউ করছেন। বিশ্বাস করতে সত্যি কষ্ট হয়।

  18. 5 out of 5

    Jishnu Banerjee

    শহীদ জননীর কলমে একাত্তরের দিনলিপি। একাত্তরের পুরোটা সময় জুড়ে জননী ঢাকা শহরেই ছিলেন। যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন নিজের বড় ছেলে রুমীকে। যে দুর্ধর্ষ ক্র্যাক প্লাটুনের কথা আমরা পড়ে শিউরে উঠি, রোমাঞ্চিত হই, সেই ক্র্যাক প্লাটুনকে খুব কাছ থেকে দেখা হয়েছে এই বইয়ে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সবচেয়ে উঁচুদরের বইগুলোর একটা, সবচেয়ে উঁচুদরের একজনের কলমে। প্রথমবারের মত কোন বই রিভিউ করতে গিয়ে মনে হচ্ছে যে এইটা রিভিউ করার যোগ্যতা আমার নেই। থামি!

  19. 4 out of 5

    Shadin Pranto

    অল টাইম ক্লাসিক বই বোঝেন? যে বই পড়তে কখনো ক্লান্তি আসবে না, যে পুস্তক পড়ে নিজের শেকড়কে চিনতে শিখবেন, তেমনই বই হলো ' একাত্তরের দিনগুলি'। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের দিনলিপি শুধু নিত্যদিনের রোজনামচা মাত্র নয়৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অক্ষত, অবিনশ্বর দলিলও বটে। এক মায়ের আকুতি তার সন্তানের জন্য, একদল যোদ্ধার সংগ্রামের কাহিনি, একটি অবরুদ্ধ জনপদকে শত্রমুক্ত করার মহাকাব্যিক আখ্যানের নামই ' একাত্তরের দিনগুলি '৷ অল টাইম ক্লাসিক বই বোঝেন? যে বই পড়তে কখনো ক্লান্তি আসবে না, যে পুস্তক পড়ে নিজের শেকড়কে চিনতে শিখবেন, তেমনই বই হলো ' একাত্তরের দিনগুলি'। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের দিনলিপি শুধু নিত্যদিনের রোজনামচা মাত্র নয়৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অক্ষত, অবিনশ্বর দলিলও বটে। এক মায়ের আকুতি তার সন্তানের জন্য, একদল যোদ্ধার সংগ্রামের কাহিনি, একটি অবরুদ্ধ জনপদকে শত্রমুক্ত করার মহাকাব্যিক আখ্যানের নামই ' একাত্তরের দিনগুলি '৷

  20. 4 out of 5

    শুভঙ্কর শুভ

    আগেও পড়েছি, ক্লাস নাইনে। তবে আজ আবার পড়ে শেষ করলাম, শুরু করেছিলাম কয়েকদিন আগেই। একজনকে পড়াচ্ছিলাম, ফেসবুকে হলে সে ঠিকই কমেন্টস করত আর বলত- সত্যিই কেঁদেছি। শুরুতে তুচ্ছ করেছিলাম বলে একটু বেশিই কেঁদেছি।

  21. 4 out of 5

    Towkir Ahmmed Rigan

    সত্যি বলছি এই বইটা সম্বন্ধে রিভিউ লেখার যোগ্যতা আমার নেই! তবে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্য রইলো শ্রদ্ধা ভেবে পাইনা অনেক কষ্ট আর ত্যাগে পাওয়া এই দেশ আর এই দেশের স্বাধীনতার মর্ম যে আমরা কবে বুঝবো?

  22. 4 out of 5

    Maruf Rosul

    “Ekattorer Dinguli” is an extraordinary narrative of the war of independence in 1971, where three million lives and lasted for nine months, leaving the country almost destroyed. However, behind those numbers and visible losses, there was excruciating pain, suffered by the ones who survived. “Ekattorer Dinguli” reveals those painful memories, in the form of a diary written by Jahanara Imam. Just as the Holocaust needed Anne Frank to bring the pain of war down to a much more relatable, personal le “Ekattorer Dinguli” is an extraordinary narrative of the war of independence in 1971, where three million lives and lasted for nine months, leaving the country almost destroyed. However, behind those numbers and visible losses, there was excruciating pain, suffered by the ones who survived. “Ekattorer Dinguli” reveals those painful memories, in the form of a diary written by Jahanara Imam. Just as the Holocaust needed Anne Frank to bring the pain of war down to a much more relatable, personal level, Sahid Janani does the same for the war of independence, narrating her day to day experience of living through the war as a mother and a wife. A highly educated and patriotic woman herself, she could not say no to her elder son Rumi when he asked permission from her to join the war. He never returned. Her husband died of a heart attack shortly after the war. Paying such a personal price for the independence, she resembles millions of Bangladeshi women of her time whose lives were turned upside down, never to be the same. It is still one of the most read and least controversial accounts of 1971, written from a woman’s perspective.

  23. 4 out of 5

    Khoirom Kameshwar

    দেশ-মাতৃকার প্রতি কত প্রগাঢ় ভালোবাসা থাকলে একজন মা বলতে পারেন- "......দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।" এই ছিল এই মায়ের দেশের প্রতি ভালবাসা। এই মা-ই শহিদ জননী জাহানারা ইমাম। দেশ-মাতৃকার জন্য তিনি নিজের সন্তানকে কোরবানি দিতেও পিছপা হননি। একদিকে আপন মা আর অন্যদিকে আপন সন্তান কিন্তু তিনি বিভ্রান্ত হননি। নিজের আপন মায়ের জন্য ভগ্নহৃদয়ে হলেও ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তানের। এক এক করে স্বামী আর পুত্রকে হারিয়েছিলেন কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও ঘাড়বে যাননি। খ দেশ-মাতৃকার প্রতি কত প্রগাঢ় ভালোবাসা থাকলে একজন মা বলতে পারেন- "......দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।" এই ছিল এই মায়ের দেশের প্রতি ভালবাসা। এই মা-ই শহিদ জননী জাহানারা ইমাম। দেশ-মাতৃকার জন্য তিনি নিজের সন্তানকে কোরবানি দিতেও পিছপা হননি। একদিকে আপন মা আর অন্যদিকে আপন সন্তান কিন্তু তিনি বিভ্রান্ত হননি। নিজের আপন মায়ের জন্য ভগ্নহৃদয়ে হলেও ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তানের। এক এক করে স্বামী আর পুত্রকে হারিয়েছিলেন কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও ঘাড়বে যাননি। খুব চমৎকারভাবে বর্ণনা করে গেছেন আত্মগাথা, পাওয়া-না পাওয়ার বৃত্তান্ত। নিজের সকল আবেগকে দূরে ঠেলে রেখে নির্লিপ্তভাবে করে গেছেন নির্মম কিন্তু সত্যকথন। যেন অহেতুক আবেগময়তায় অতিরঞ্জিত না হয়ে যায় পাক-হানাদারবাহিনীর অপবিত্র বেড়াজাল থেকে বাঙালি সত্ত্বাকে মুক্ত করার অসামান্য এই যুদ্ধের ইতিহাস। কী অদ্ভুত!! আমাকে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে তাহল রুমীর যুদ্ধে যাবার প্রস্তুতি। ৬ মে, ১৯৭১ রোজ বৃহস্পতিবারের দিনলিপির কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি ব্যাপারটা স্পষ্ট করার জন্য- "......কাপড়-জামা রাখার জন্য রুমী সঙ্গে নিচ্ছে একটা ছোট আকারের এয়ারব্যাগ। তাতে দু'সেট কাটা কাপড়, তোয়ালে, সাবান, স্যান্ডেল আর দু'টো বই- 'জীবনানন্দের শ্রেষ্ঠ কবিতা' ও 'সুকান্ত সমগ্র।'......।" কী দারুণ প্রাণশক্তি! রুমী যুদ্ধে যাচ্ছে 'জীবনানন্দ' আর 'সুকান্ত' কে নিয়ে। যেন 'সুকান্ত'কে নিয়ে যুদ্ধ করবে আর 'জীবনানন্দ'কে দিয়ে শান দিবে পাক-হানাদারের কালো হাতের কবলে থাকা দেশ-মাতৃকার প্রতি ভালবাসাকে। এটাই যেন তার মুখ্য যুদ্ধাস্ত্র! রুমী পরেরদিন যুদ্ধে যাবে। আবার কোনদিন ফিরে আসতে পারবে কি? আবার মার কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত মনে ঘুম দিতে পারবে কি? মার হাতের মমতা মিশানো রান্নাটা কি আবার খেতে পারবে? জানে না সে! 'আবার ফিরে আসা' থেকে 'আর ফিরে আসবে না' এই আশঙ্কাই মনে হয় তার নিকট আত্মীয়। সে যাচ্ছে যুদ্ধ নামক অনিশ্চয়তার আতিথ্য বরণ করতে যেখানে এক মুহূর্তের সুচিন্তিন্ত যুদ্ধকৌশল পার্থক্য করে অনন্ত-অনিঃশেষ ঘুম আর সংক্ষিপ্ত জীবনপ্রবাহের। সেই অনিশয়তার আশঙ্কাই রুমী তার মাকে বলছে- "আম্মা আজকে একটু বেশি সময় মাথা বিলি করে দিতে হবে কিন্তু।" বড় ভাইয়ের সাথে কি আর কোনদিন দেখা হবে? নাকি এই শেষ রাত? সদ্য বড় হতে শুরু করা জামীও বুঝে এই অনিশ্চয়তার গভীরতা তাই সে বলছে, 'মা, আজ আর আমার মাথা বিলি করার দরকার নেই। ওই সময়টাও তুমি ভাইয়াকে দাও।' যে কিনা বরাবরই বলত, ' মা তুমি ভাইয়ার মাথা বেশি সময় ধরে বিলি করছ।' সেই জামী যেন আজ হঠাৎ করে বড় হয়ে গেছে। নিজের অংশের ভালবাসাটুকু সে আজকের জন্য কোরবানি করছে নিজের সহোদরের জন্য। এমন নিঃস্পৃহ ত্যাগ-তিতিক্ষা আর ভালবাসার অসংখ্য মূল্যবান কাহিনী এই মুক্তিযুদ্ধ যা বাঙালী জাতির সত্বাকে পবিত্র করে রেখেছে। মা চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে আর রুমী 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি' গানটার সুরে আস্তে আস্তে করে শিস বাজাচ্ছে- এই লাইনটা পড়ার সাথে সাথে আমার কল্পনায় ভেসে উঠে সেই দৃশ্যের নির্বাক প্রবাহ। আর আমার চিন্ময় চিত্তে আমি অনুভব করতে থাকি মা-ছেলের হৃদয়ের অভ্যন্তরে ভালবাসা ছদ্মনামের পবিত্র মায়ার আঘাতে ফুঁসে উঠা ঝড়ের আভাস। যুদ্ধ মানুষকে শুধু হিংস্র হতে শেখায় না ভালবাসতে শেখায়, শুধু দূরে ঠেলে দেয় না কাছে টানতেও শেখায়। 'Everything is fair in love and war' কথাটা আসলেই সত্যি। যে মা তার ছেলের বন্ধুকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিল তার সামনে সিগারেট খাবার অপরাধে সেই মা-ই তার যুদ্ধ ফেরত ছেলেকে তার সামনে সিগারেট খাবার অনুমতি দিচ্ছে। নিজের ছেলেকে একমুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করতে চাচ্ছে না পাছে কখন যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাবার সময়টুকু এসে পড়ে। যুদ্ধ মানুষকে আপন করে নিতেও শেখায় নাহলে কেন কেউ নিজে খেয়ে-না খেয়ে হাজার-হাজার টাকা পাঠায় সেই অচেনা-অপরিচিত মুক্তি সৈনিকদের জন্য? কেনইবা দিনে আনে দিনে খায় শ্রেণীর মানুষটা নিজের একমাত্র সম্বল পশুটাকে কোরবানি করে রেঁধে রাখে কেউ না কেউ আসবে বলে? কেনইবা আপাদমস্তক সাম্প্রদায়িক মানুষটিও নিজের ঘরের দরজা খুলে দেয় আরেক সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য? কেনইবা নিজের প্রাণ হাতে নিয়ে পলায়নরত পথিককে বলে বিশ্রাম নিয়ে যেতে? কেনইবা মুক্তিসেনাদের বাঁচাতে প্রাণনাশের হুমকি নিয়ে মিথ্যা বলতেও পিছপা হয়নি? আসলে সেই সময়ে সবাই মিশে গিয়েছিল এক সত্ত্বায়। ঘুচে গিয়েছিল সাদা-কালোর ঘনঘটা, উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ, থেমে গিয়েছিল অমুক আর তমুক ধর্মের কলকাঠি, এক হয়ে গিয়েছিল সদা প্রবাহমান নদীর কিনার ভাঙা প্রবাহের মত। 'একাত্তরের দিনগুলি' শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের নিছক দিনলিপি নয়। যুদ্ধ আর মনুষ্যত্বের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব আর বিবাদের, ভালবাসা আর ঘৃণার, পাওয়া-না পাওয়ার এক পূর্ণাঙ্গ চিত্রায়ণ এই বই। শহিদ জননী নিজের আবেগময়তার উর্দ্ধে উঠে বিশ্লেষণ করে গেছেন যুদ্ধ নামক অনিশ্চ্যতাকে আর উপস্থাপন করেছেন অকাট্য সত্যকে। উনি এমনভাবে নিজের হাসি-কান্না, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কে বর্ণনা করে গেছেন যেন নিজের কোন নিকটাত্মীয়ের জীবনের গতিময়তাকে লক্ষ্য করছেন দূর থেকে। সেই প্রসঙ্গে 'হুমায়ূন আহমেদ' বলেছিলেন- "ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তিনি দেখছেন। কিন্তু দেখছেন দূর থেকে। যদিও এই গল্প তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত গল্প। জননীর তীব্র শোক আর বেদনার গল্প। নিজের গল্প দূর থেকে দেখতে পারেন তাঁরাই, যাঁরা বড় শিল্পী। গভীর আবেগকে সংযত করার জন্য প্রয়োজন হয় একটি পাষাণ হৃদয়ের। সত্যিকার শিল্পীদের হৃদয় হয় পাথরে, নয়তো এত দুঃখকে তাঁরা কোথায় ধারণ করবেন? জাহানারা ইমাম হৃদয়কে পাথর করে লিখলেন তাঁর ডায়রী। কি অসম্ভব আন্তরিকতার সঙ্গেই না তাঁর গল্প বলে গেছেন। সেই গল্প তাঁর একার থাকেনি। কোন এক অলৌকিক উপায়ে হয়ে গেছে আমাদের সবার গল্প।" মোদ্দাকথা, মুক্তিযুদ্ধের একটি নিষ্কলুষ, অপ্রতিদ্বন্দী আর অদ্বিতীয় দলিল 'একাত্তরের দিনগুলি'।

  24. 4 out of 5

    Abdullah Al Mamun

    "সারা ঢাকা শহরের লোক একই সঙ্গে হাসছে আর কাঁদছে। স্বাধীনতার জন্য হাসি।কিন্তু হাসিটা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এত বেশি রক্তে দাম দিতে হয়েছে যে কান্নার স্রোতেও হাসি দুবে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে। " ------জাহানারা ইমাম ১৭ ই ডিসেম্বর শুক্রবার ১৯৭১ "সারা ঢাকা শহরের লোক একই সঙ্গে হাসছে আর কাঁদছে। স্বাধীনতার জন্য হাসি।কিন্তু হাসিটা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এত বেশি রক্তে দাম দিতে হয়েছে যে কান্নার স্রোতেও হাসি দুবে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে। " ------জাহানারা ইমাম ১৭ ই ডিসেম্বর শুক্রবার ১৯৭১

  25. 5 out of 5

    Sanjana Islam

    মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকাকে বোঝার জন্যে শ্রদ্ধেয় জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি এবং সুফিয়া কামালের একাত্তরের ডায়েরি এই দুটি বই ই যথেষ্ট। ঢাকা ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে প্রথম পরিচয় হয়েছিল এই বইয়ের মাধ্যমেই। অনবদ্য সৃষ্টি।

  26. 5 out of 5

    Azwad Enam

    যদি এই বইটাকে ১০০ টা স্টার দেয়া যেত তাহলে বোধহয় আমি তাই দিতাম। এই বইটি নিয়ে রিভিউ লিখার যোগ্যতা বা দুঃসাহস কোনটি আমার নেই। আমরা যারা কেউ মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি তাদের জন্য এটা একটা অবশ্য পাঠ্য হওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধের ডামাডোলে খুব কম মানুষই এত সুন্দর করে এবং নিষ্ঠার সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্ববহ দিনগুলি লিখে রাখতে পেরেছেন। "একাত্তরের দিনগুলি" শুধু একজন শহীদ জননীর লেখা সাধারণ কোন দিনপঞ্জি বা ডায়েরী নয়। যুদ্ধ যে শুধু যোদ্ধা বা নেতাদের নয়, যুদ্ধ আমাদের গণমানুষের জীবনের সাথে কিভাবে ওতপ যদি এই বইটাকে ১০০ টা স্টার দেয়া যেত তাহলে বোধহয় আমি তাই দিতাম। এই বইটি নিয়ে রিভিউ লিখার যোগ্যতা বা দুঃসাহস কোনটি আমার নেই। আমরা যারা কেউ মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি তাদের জন্য এটা একটা অবশ্য পাঠ্য হওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধের ডামাডোলে খুব কম মানুষই এত সুন্দর করে এবং নিষ্ঠার সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্ববহ দিনগুলি লিখে রাখতে পেরেছেন। "একাত্তরের দিনগুলি" শুধু একজন শহীদ জননীর লেখা সাধারণ কোন দিনপঞ্জি বা ডায়েরী নয়। যুদ্ধ যে শুধু যোদ্ধা বা নেতাদের নয়, যুদ্ধ আমাদের গণমানুষের জীবনের সাথে কিভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় তা লেখক অনেক সুবিন্যস্ত করে তুলে ধরেছেন সাধারণ পাঠকের জন্য। এতে নেই কোন কৃত্রিমতা! শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুধু শহীদ রুমীর মা নন তিনি আমাদের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মা। তিনি তার ছেলেকে যুদ্ধে যেতে বাধা দেননি বরং নিজে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।,নিজে গাড়ি চালিয়ে ছেলেকে যুদ্ধে যাবার জন্য নিয়ে গিয়েছেন। শুধু একজনের মা নয় তিনি সব মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের সন্তানগণ্য করেছেন। হাসিমুখে সন্তানকে বিদায় দিয়েছেন কিন্তু নিজ দায়িত্ব সব সময় পালন করে গেছেন। প্রতিটি দিনের বর্ণনা যেন আমার চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে!নিজের ছেলেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন কিন্তু একবারের জন্যেও সন্তান হারানোর জন্য আফসোস না করে শোককে শক্তিতে পরিণত করেছেন। দেশ স্বাধীন হবার ২ দিন আগে স্বামীকে হারিয়েছেন কিন্তু আশা হারাননি। স্বাধীনতার পরও কাজ করে গেছেন ঘাতক দালাল নির্মূল করার জন্য। অসাধারণ লেখনির মাধ্যমে পাঠককে নিয়ে গেছে সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোতে, কোন জায়গায় একটা চাপা উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা যেন চেপে ধরে পাঠকে এইভেবে সবঠিক হয়ে যাবে তো? গেরিলারা কেউ ধরা পড়েনিতো?? আবার উল্লাসে মনটা ভরে উঠে যখন গেরিলারা একটার পর একটা ভীতিজাগানিয়া অপারেশন সফলভাবে শেষ করে। কেউ যদি আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে জানতে চান তাহলে অবশ্যই বইটি পড়া উচিত।

  27. 5 out of 5

    Melody

    বেশ অনেকদিন লেগে গেল পড়তে। কিন্তু, এই বইটা! :') একাত্তরের ওই সময়টায় লেখা যত যা পড়েছি, পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছি। মুক্তিবাহিনীর একেকটা সফল অ্যাকশন পড়ে নিজেও খুব খুশি হয়ে যাচ্ছিলাম, আবার শয়তানগুলা যখন বিনা কারণে ব্রাশ ফায়ার চালিয়ে মানুষ মারছিল, তখন ঘৃণায় মন বিষিয়ে গেছে। শহীদ জননীর শক্তিশালী লেখনীর জন্য আরও আগ্রহ পাচ্ছিলাম পড়ার। এখনও মন পড়ে আছে মেলাঘরে, সেক্টর টু তে। আরও বেশি জানতে ইচ্ছা হয়, আরও অনুভব করতে ইচ্ছা হয়। বেশ অনেকদিন লেগে গেল পড়তে। কিন্তু, এই বইটা! :') একাত্তরের ওই সময়টায় লেখা যত যা পড়েছি, পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছি। মুক্তিবাহিনীর একেকটা সফল অ্যাকশন পড়ে নিজেও খুব খুশি হয়ে যাচ্ছিলাম, আবার শয়তানগুলা যখন বিনা কারণে ব্রাশ ফায়ার চালিয়ে মানুষ মারছিল, তখন ঘৃণায় মন বিষিয়ে গেছে। শহীদ জননীর শক্তিশালী লেখনীর জন্য আরও আগ্রহ পাচ্ছিলাম পড়ার। এখনও মন পড়ে আছে মেলাঘরে, সেক্টর টু তে। আরও বেশি জানতে ইচ্ছা হয়, আরও অনুভব করতে ইচ্ছা হয়।

  28. 4 out of 5

    Ësrât Járïñ

    "যা তোকে আমি দেশের জন্য কুরবানী দিলাম" জাহানারা ইমাম হয়ত স্বপ্নেও ভাবেননি তার মুখ থেকে বের হওয়া অসতর্ক মুহূর্তের এই কথাটা সারাজীবন তাকে অনুতাপের আগুনে পুড়িয়ে মারবে,পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন নিজে চলে গেছি একাওরের দিনগুলোতে "যা তোকে আমি দেশের জন্য কুরবানী দিলাম" জাহানারা ইমাম হয়ত স্বপ্নেও ভাবেননি তার মুখ থেকে বের হওয়া অসতর্ক মুহূর্তের এই কথাটা সারাজীবন তাকে অনুতাপের আগুনে পুড়িয়ে মারবে,পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন নিজে চলে গেছি একাওরের দিনগুলোতে

  29. 4 out of 5

    Monami Arani

    প্রিয় একটা বই। ক্লাস এইটে গোগ্রাসে পড়ে শেষ করেছিলাম বইটা। বাসায় তখন বই পড়া নিয়ে কারফিউ জারি হয়েছিলো। স্কুলে তাই আগে চলে যেতাম ব্যাগে বই নিয়ে, স্কুল থেকে ফিরে আসতামও দেরিতে। বইটা পড়তে গিয়ে অসংখ্যবার হাউমাউ করে কেঁদেছি। মুক্তিযুদ্ধ আর প্রতিটা মানুষের কষ্ট যেন আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রতি পাতায় পাতায় যেন নতুন রূপে দেখতে পাচ্ছিলাম। কিভাবে বেঁচে ছিলো পরে মানুষগুলো প্রিয়জনদের হারিয়ে? রুমীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছি দীর্ঘদিন। আহা বীর মানুষগুলো যদি বেঁচে থাকতো...শহীদ রুমী, শহী প্রিয় একটা বই। ক্লাস এইটে গোগ্রাসে পড়ে শেষ করেছিলাম বইটা। বাসায় তখন বই পড়া নিয়ে কারফিউ জারি হয়েছিলো। স্কুলে তাই আগে চলে যেতাম ব্যাগে বই নিয়ে, স্কুল থেকে ফিরে আসতামও দেরিতে। বইটা পড়তে গিয়ে অসংখ্যবার হাউমাউ করে কেঁদেছি। মুক্তিযুদ্ধ আর প্রতিটা মানুষের কষ্ট যেন আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রতি পাতায় পাতায় যেন নতুন রূপে দেখতে পাচ্ছিলাম। কিভাবে বেঁচে ছিলো পরে মানুষগুলো প্রিয়জনদের হারিয়ে? রুমীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছি দীর্ঘদিন। আহা বীর মানুষগুলো যদি বেঁচে থাকতো...শহীদ রুমী, শহীদ জুয়েল, শহীদ আজাদ আরও অনেকে...যুদ্ধ শেষে সবাই যদি মা এর কোলে প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসতো... শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সাথে যদি একটাবার দেখা করতে পারতাম..আফসোস আমার জন্মের আগেই উনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

  30. 5 out of 5

    Mahrin ফেরদৌস Ferdous

    'একাত্তরের দিনগুলি' প্রবলভাবে স্পর্শ করেনি এমন কাউকেই সম্ভবত পাওয়া যাবে না। জাহানারা ইমামের নিভৃততম দুঃখে ও বয়ানে এই বইতে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো এমন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা পাঠক হিসেবে আমাদের বার বার বাধ্য করেছে গভীরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে। বোধের স্ফূলিঙ্গ ছড়াতে। দীর্ঘদিন পর বইটি দ্বিতীয়বারের মতো পড়া হলো। আর আমি জানি, এই বইয়ের কাছে আমাদের বার বার ফিরে আসতে হবে... 'একাত্তরের দিনগুলি' প্রবলভাবে স্পর্শ করেনি এমন কাউকেই সম্ভবত পাওয়া যাবে না। জাহানারা ইমামের নিভৃততম দুঃখে ও বয়ানে এই বইতে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো এমন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা পাঠক হিসেবে আমাদের বার বার বাধ্য করেছে গভীরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে। বোধের স্ফূলিঙ্গ ছড়াতে। দীর্ঘদিন পর বইটি দ্বিতীয়বারের মতো পড়া হলো। আর আমি জানি, এই বইয়ের কাছে আমাদের বার বার ফিরে আসতে হবে...

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading...
We use cookies to give you the best online experience. By using our website you agree to our use of cookies in accordance with our cookie policy.